হঠাৎ শুরু হওয়া এ বৃষ্টির কারণে মাঠের জরুরি কাজকর্ম বন্ধ হয়ে গেছে। একই সঙ্গে কফি গাছে বিভিন্ন রোগবালাই ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় কৃষক ও কৃষি বিশেষজ্ঞরা। খবর রয়টার্স।
সম্প্রতি ব্রাজিলের প্রধান কফি উৎপাদনকারী অঞ্চল মিনাস জেরাইসসহ দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে টানা তিনদিন ধরে বৃষ্টি হয়েছে। দক্ষিণ গোলার্ধে এখন শীতকাল, যা সাধারণত শুষ্ক থাকে। এ সময়ে এমন অতিরিক্ত আর্দ্রতা ও বৃষ্টিপাত একেবারেই অস্বাভাবিক। আবহাওয়াবিদদের ধারণা, বৈশ্বিক জলবায়ুর ওপর প্রভাব ফেলা এল নিনোর কারণে এমন আবহাওয়া তৈরি হতে পারে।
স্থানীয় কৃষকরা কফির বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। শীতকালীন শুষ্ক আবহাওয়া কফি সংগ্রহ এবং তা শুকানোর জন্য খুবই জরুরি। দক্ষিণ মিনাস জেরাইসের কফিচাষী ফেরনান্দো বারবোসা জানান, বৃষ্টির কারণে কফি তোলার কাজ সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। তিনি আশঙ্কা করছেন, এরই মধ্যে অন্তত ১০ শতাংশ কফি ফল গাছ থেকে ভেজা মাটিতে ঝরে পড়েছে। এ ঝরে পড়া কফি পরে সংগ্রহ করা গেলেও এর মান অনেক কমে যাবে।
এদিকে মাঠ থেকে তোলা কফি নিয়ে বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। সংগ্রহের পর কফি বীজ সাধারণত খোলা জায়গায় রেখে রোদে শুকানো হয়। কিন্তু বৃষ্টির কারণে খামারে রাখা শত শত টন কফি ভিজে গেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখা গেছে, কৃষকরা ভেজা কফির আর্দ্রতা কমাতে এবং পচন রোধ করতে কফির ওপর চুন ছিটিয়ে দিচ্ছেন।
এ অতিরিক্ত ভেজা আবহাওয়া কফি গাছের জন্য দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি ডেকে আনতে পারে। কৃষিবিদ জোনাস ফেরারেসো জানান, স্যাঁতসেঁতে আবহাওয়ার কারণে কফি গাছে ব্যাকটেরিয়া ও ছত্রাকজনিত রোগ ছড়িয়ে পড়ার বড় ঝুঁকি রয়েছে। ফসল তোলার এ ব্যস্ত সময়ে খামারের সব শ্রমিক ও যন্ত্রপাতি ব্যস্ত থাকায় রোগ প্রতিরোধে বাড়তি ব্যবস্থা নেয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। তাছাড়া ফসল তোলার সময় গাছে ছত্রাকনাশক স্প্রে করারও নিয়ম নেই।
আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আগামী দিনগুলোতেও আরো বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে ব্রাজিলের এ সংকট কফির আন্তর্জাতিক বাজারেও প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকরা।